স্থানীয় বখাটে ও পৌর স্যানিটারি পরিদর্শকের লোলুপ দৃষ্টিতে শেষ হতে চলেছে ভুমিহীন নারী শিউলি বেগম সংসার
বেনাপোল পোর্ট সংবাদদাত স্থানীয় বখাটে ও পৌর স্যানিটারি পরিদর্শকের লোলুপ দৃষ্টিতে শেষ হতে চলেছে ভুমিহীন নারী শিউলি বেগম সংসার। কিছুদিন আগেই যেখানে চুরি, ছিনতাই সহ নানা কর্মকান্ড পরিচালিত হতো এখন একটি মাত্র দোকানের জন্য পুরো পেঁচের বাওড় এলাকা সাধারন মানুষের কাছে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিনত হয়েছে।
বেনাপোল বন্দর এলাকায় কোন দর্শনীয় স্থান না থাকায় স্থানীয়রা বিকাল থেকে পেঁচের এলাকায় যায় পরিবার পরিজন নিয়ে।কিন্তু বখাটেদের উৎপাতে ও সন্ধ্যার পর চুরি ছিনতাই এর ফলে এক সময় মানুষ যখন পেঁচের বাওড় এলাকা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলো ঠিক সেই সময় পেঁচের বাওড় কসাই খানা সংলগ্ন একটি ছোট্ট চায়ের দোকান দিয়ে বসে ভুমিহীন নারী শিউলি বেগম। আস্তে আস্তে শুরু হয় লোক সমাগম। সাধারন মানুষের কাছে দর্শনীয় স্থান হিসাবে পরিচিত পায় পেঁচের বাওড়। সব ধরনের শ্রেনী পেশার মানুষ অবসর সময় কাটাতে যায় সেখানে।
বাওড়ের কসাইখানা পাশে অবস্থিত ভুমিহীন নারী শিউলি বেগমের ছোট্ট চায়ের দোকান টি উচ্ছেদ করতে উঠে পড়ে লেগেছে কিছু অসাধু মাংস ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বখাটে যুবকরা।
স্থানীয়রা জানায়,সম্প্রতি কসাইখানায়,মরা রুগ্ন, অসুস্থ্য,পেটে বাচ্চা আছে এমন গরু জবাই করা হয়।এসমস্ত খবর স্থানীয় পত্র প্রত্রিকায় প্রকাশিত হলে টনক নড়ে প্রশাসনের জব্দকরা হয় বেশ কিছু মাংস। আদায় করা হয় জরিমানা সতর্ক করা হয় ব্যবসায়ীদের। মাংস ব্যবসায়ীদের ধারনা এই দোকান থেকে মরা,রুগ্ন অসুস্থ্য গরুর খবর পাচার হয় সাংবাদিকদের কাছে।
সেই ধারনা থেকে অসাধু মাংস ব্যবসায়ীরা এক জোট হয়ে স্থানীয় কিছু বখাটেদের লেলিয়ে দিয়েছে ভুমিহীন শিউলী বেগমের পিছে। দোকান বাকি খাওয়া সহ শুরু হয় নানা ধরনের উৎপাত। বখাটেদের উৎপাতে শিউলী বেগম কে উচ্ছেদ করতে না পেরে অসাধু মাংস ব্যবসায়ীরা শরনাপন্ন হয় বেনাপোল পৌর সভার স্যানেটারি পরিদর্শকের সাথে। স্যানেটারী পরিদর্শক কে ম্যানেজ করে পৌর প্রশাসক কে ভুল বুঝানো হয়েছে।
আমরা পৌর প্রশাসকের প্রতি অনুরোধ করবো দোকানটি উচ্ছেদ না করে তাকে ব্যবসা করার সুযোগ দিতে।
ভুক্তভোগী ভুমিহীন নারী শিউলি বেগম বলেন, এলাকার কিছু বখাটে যুবকদের কাছে পাওনা টাকা চাওয়ায় আমাকে প্রতিনিয়ত উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে। এখানে আমি ছোট্ট একটি চায়ের দোকান চালিয়ে জীবন নির্বাহ করে থাকি। কাউকে কসাই খানা সম্পর্কে কোন তথ্য আমি দেয়নি। তারা পৌর প্রশাসক সহ বিভিন্ন স্থানে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপতথ্য ছড়িয়ে আমাকে উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে। আমার হাজার হাজার টাকা বিভিন্ন মানুষের কাছে পাওনা রয়েছে আমার যদি দোকান থেকে উচ্ছেদ করা হয়।তাহলে আমার টাকা গুলো আদায় করা সম্ভব হবে না। মানুষের দোয়ারে ভিক্ষা করা ছাড়া আমার কোন উপায় থাকবে না।
আমি সরকার বাহদুর ও বেনাপোল পৌর প্রশাসক কে সহানুভূতি কামনা করছি।
বেনাপোল পৌর সভার ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর ইছাহক মিয়া বলেন, বিষয় আমি খোঁজ খবর নিয়েছি অসাধু মাংস ব্যবসায়ীরা স্থানীয় কিছু বখাটে ও পৌর সভার স্যানিটারি পরিদর্শকের মাধ্যমে পৌর প্রশাসক কে ভুল বুঝিয়ে সরকারি জায়গা থেকে তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ অসহায় ভুমিহীন নারীর দোকান ঘর টি উচ্ছেদ না করার জন্য অনুরোধ করেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!