বেনাপোল চেকপোষ্টে মৃত সেই পাসপোর্ট যাত্রীর মরদেহ ৩ দিন পর ভারতে নিয়ে গেল স্ত্রী
সমাজের নিউজ ডেক্সঃ দূতাবাসের ছাড়পত্র নিয়ে দেশে ফিরলো যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল চেকপোস্টে মৃত্যু বরনকারী ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রী গৌতম মিস্ত্রি (৫৫) এর মরদেহ। প্রায় ২ সপ্তাহ বরিশালে আত্মীয়র বাড়ি বেড়িয়ে দেশে ফেরার সময় গত বুধবার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (স্টোক) করে বেনাপোলে মৃত্যু বরন করেন। তার পাসপোর্ট নং ঞ-৩৩৬১৬১১. তিনি ৭৮/১, কালিয়া নগর সুরাইয়া সেন পল্লী কোলকাতার রমনী মিস্ত্রীর ছেলে।
আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে দেশে ফিরে যান।
গৌতম মিস্ত্রির স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রি জানান, দুই সপ্তাহ আগে আমি আমার স্বামী গৌতম মিস্ত্রিকে নিয়ে বাংলাদেশের বরিশালে আমার বাবার বাড়ি এবং অন্য আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। গত বুধবার দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য বেনাপোলে আসি। গাড়ি থেকে নামার পর পরই আমার স্বামী গৌতম মিস্ত্রি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাংলাদেশ অংশে মারা যাওয়ায় বিভিন্ন কাগজপত্রের কারনে মৃতদেহ নিয়ে দেশে ফিরতে পারিনি। প্রায় ৩ দিন পর হাসপাতাল থেকে ডেথ সার্টিফিকেট, স্থানীয় থানার জিডি এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ক্লিয়ারেন্সে পেয়ে স্বামীর মরদেহ নিয়ে আজ দেশে ফিরে যাচ্ছি। তবে বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ। আমার কাছে কোন টাকা পয়সা ছিল না। এ দেশের মানুষ আমাকে টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করেছে। ডেড বডি গাড়িতে উঠানো নামানো থেকে শুরু করে সার্বিক সাহায্য তারা করেছে। বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি স্যার এবং স্থানীয় কিছু লোকজন বেশ কিছু টাকা পয়সা জোগাড় করে দিয়েছিলেন। যা দিয়ে ঢাকা যাওয়া আসা খাওয়া সব খরচ এদেশের মানুষ বহন করেছে। কিন্তু আমার নিজের ভাইকে ফোন করেছিলাম সে আমাদের দেখতে পর্যন্ত আসেনি। এদেশের মানুষের মানবিকতাকে ধন্যবাদ জানানো ছাড়া আমার আর কিছু দেওয়ার নেই।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ সাইফুর রহমান বলেন, গত বুধবার স্টোকজনিত কারনে মৃত্যুবরনকারী ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রী আজ বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে ফিরে গেছে। যে দিন ওই যাত্রী মারা গিয়েছিলেন সে দিন মৃত গৌতম মিস্ত্রির স্ত্রীর কাছে ডেথ সার্টিফিকেট এবং থানার জিডি কপি ছাড়া আর কোন কাগজপত্র ছিলনা। পরে দূতাবাসের কিয়ারেন্স আনার পর আজ সকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রি স্বামীর মরদেহ নিয়ে ভারতে চলে গেছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!